উদীচী–ছায়ানট–প্রথম আলো–ডেইলি স্টারে হামলার বিচার ও হাদি হত্যার দাবিতে রাজধানীতে প্রতিবাদ

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ছায়ানট, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে রাজধানীতে সমাবেশ ও মশালমিছিল করেছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মশালমিছিল শুরুর আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক উসকানিমূলক বক্তব্য ও হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই ন্যক্কারজনক হামলাগুলো সংঘটিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে আগেই সতর্ক করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সমাবেশে জামসেদ আনোয়ার তপন ছাত্রশিবির নেতা মুস্তাফিজুর রহমান ও মোস্তাকুর রহমান জাহিদের গ্রেপ্তার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অপসারণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। উদীচীসহ সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগকে তারা সরাসরি ‘নব্য ফ্যাসিবাদী আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। উপস্থিত ছিলেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জাকির হোসেন ও কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, সংস্কৃতি অনুশীলন কেন্দ্রের রঘু অভিজিৎ রায়, মাওলানা ভাসানী পরিষদের হারুনুর রশীদ, প্রগতি লেখক সংঘের দীনবন্ধু দাশ, সমাজ চিন্তা ফোরামের কামাল হোসেন বাদল, রিকশা–ভ্যান–ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের আব্দুল কুদ্দুস, সিপিবির আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এবং বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সমাবেশ শেষে মশালমিছিলটি পল্টন এলাকা থেকে শুরু হয়ে জিপিও ও গুলিস্তান ঘুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সহিংসতা বন্ধ, হামলার বিচার এবং গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর রক্ষার দাবি জানান।















