বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক রিহ্যাব মাহামুর এক বিবৃতিতে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন আছে—এমন ধারণার ভিত্তিতে ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি ভয়াবহ ধারা হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ভিন্নমত দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার না করে নির্বাচনের আগে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
রিহ্যাব মাহামুর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের আওতায় বাংলাদেশের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা মেনে চলা জরুরি। সেই দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।
মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আদালতে আনিস আলমগীর বলেছেন, তিনি একজন সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করে আসছেন এবং কারও কাছে মাথানত করা তাঁর পেশার অংশ নয়।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে করা একটি মামলার পর আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় আরও চারজনের নাম রয়েছে। ঢাকার একটি মহানগর হাকিম আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।
চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সংশোধনের পর থেকে এই আইন ব্যবহার করে দলটির প্রতি সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার মতো সাংবাদিকরাও রয়েছেন। অ্যামনেস্টি বলছে, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা দমনে এ ধরনের আইন প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।
বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ প্রেক্ষাপটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। সংস্থাটি দমনমূলক আইন প্রয়োগ বন্ধ করে একটি অধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
















