আজকের উদীয়মান তরুণ প্রজন্ম এবং প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের পুরো জাতির যোগ্য নেতৃত্ব প্রদান করবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মাঝেই আমরা আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।”
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের দিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসস্থান ও কার্যালয় বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল আইডিয়ালে স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় ও সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই দিকনির্দেশনামূলক কথাগুলো তুলে ধরেন।
সম্প্রতি সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর প্রশাসনিক নির্দেশনার আওতায় এই প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন ঘুরে দেখার ঐতিহাসিক সুযোগ পেলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে সপ্তম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক প্রতিনিধিরা এই বিশেষ পরিদর্শনে অংশ নেন।
সফরকালে শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের ভেতরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা সশরীরে ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেরণাদায়ক বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের সাথে এক প্রাতিষ্ঠানিক ফটোসেশনে অংশ নেন।
দেশের নতুন প্রজন্মকে বঙ্গভবন এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীরভাবে আগ্রহী করে তোলার জন্য গৃহীত এই অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে পরিদর্শনে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতির সাথে সরাসরি কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক কথা বলার সুযোগ লাভ করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে জীবনের সর্বক্ষেত্রে গুরুজন ও প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার পাশাপাশি সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার অপরিসীম আত্মত্যাগের কথা সর্বদা হৃদয়ে লালন করে নিজেদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বাবা-মা, শিক্ষক এবং সমাজের সকল মুরুব্বিদের সর্বদা শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তোমরা যদি নিজেদের সুশিক্ষিত এবং প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারো, তবে যেমন তোমাদের পিতা-মাতার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হবে, ঠিক তেমনি এই পুরো জাতির প্রত্যাশাও সার্থকভাবে পূরণ হবে।”
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের এই বঙ্গভবন কেবল একটি সাধারণ ইটের ভবন নয়, এটি আমাদের সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক এবং জাতীয় ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।”
ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও পর্যায়ক্রমে বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাদের বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের ভেতর ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি হয়, ঠিক সেই লক্ষ্যেই আজকের এই পরিদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
একই সাথে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষায় চরম দক্ষ হয়ে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।
এই ব্যতিক্রমী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।






















