সাভারের একটি রিসোর্টে ভোররাতের বৈঠকে চূড়ান্ত হয় হাদি হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা, সিসিটিভি ও অডিও প্রমাণের কথা জানাচ্ছে তদন্ত সংস্থা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টার পেছনে সাভারের একটি রিসোর্টে গোপন বৈঠক হয়েছিল—এমন তথ্য হাতে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ ও কথোপকথনের অডিও বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা বলছেন, হামলার চূড়ান্ত ছক সেখানেই কষা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল সাভারের একটি রিসোর্টে—এমনটাই ধারণা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে ওই রিসোর্টে বসে হামলার চূড়ান্ত ছক কষা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে কিলিং মিশনের প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান, তার বান্ধবী মারিয়া, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন এবং আরও এক নারী উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি গোয়েন্দা দল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সাভারের ওই রিসোর্টে সরেজমিন তদন্ত চালায়। বিষয়টি সাভার মডেল থানার পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের হাতে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত ফয়সাল ও আলমগীরসহ চারজন রিসোর্টের একটি কক্ষে অবস্থান করেন। এর আগে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আলমগীর হোসেন নাইট ডিউটির কর্মী হাবিবুর রহমান সিয়ামের মাধ্যমে ২০৪ নম্বর কক্ষটি বুকিং দেন।
রিসোর্টের রেকর্ড অনুযায়ী, রাত ৪টা ৮ মিনিটে আলমগীরের পরিচয়ে দুই নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আলমগীর, ফয়সাল ও দুই নারী একসঙ্গে রিসোর্ট ত্যাগ করেন।
গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই সময়েই হাদির ওপর হামলায় জড়িতরা একত্রিত হয়ে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। তাদের মধ্যকার কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও এখন তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হাদিকে হত্যাচেষ্টার এই ঘটনায় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
















