গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাওয়াটাই ছিল মাদ্রাসায় যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি (মব) কিংবা মাদ্রাসা বা ফ্ল্যাট দখলের কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। একই সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তোলা ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার বিষয়ে তিন দিন আগেই তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অবহিত করলেও কোনো ধরনের কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উল্টো তার বিরুদ্ধে জনতাকে উসকে দেওয়া, ফ্ল্যাট দখল, ভাঙচুর ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের কাল্পনিক অভিযোগ তুলেছে। ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরির দাবির সত্যতা বিচারে তিনি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা বা পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ নেই, তবে অপরাধের আড়ালে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দায়ের করা যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত মামলায় ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও ভাঙচুর ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পৃথক পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

























