দক্ষিণ আমেরিকার জোট মারকোসুরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভোট গ্রহণ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। প্যারিস বলেছে, বর্তমান অবস্থায় এই চুক্তির ওপর ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
রোববার ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় কৃষিখাতের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক ব্যবস্থাগুলো নিশ্চিত করতে আরও সময় নিয়ে আলোচনা চালানো দরকার। সে কারণে নির্ধারিত সময়সীমা পেছানো উচিত।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন সোমবার ব্রাজিল সফরে যাচ্ছেন, যেখানে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে—এই চারটি মারকোসুর সদস্য দেশের সঙ্গে ইইউর আলোচনা চলছে। তবে যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন, আর এ ক্ষেত্রেই আপত্তি জানিয়েছে ফ্রান্স।
ফ্রান্সের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০ ডিসেম্বর মারকোসুর সম্মেলন হওয়ার ঘোষণা থাকলেও এই প্রেক্ষাপটে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়ার মতো কোনো ভোট আয়োজনের শর্ত এখনো পূরণ হয়নি।
এর আগে জার্মানির অর্থনৈতিক দৈনিক হ্যান্ডেলসব্লাটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের অর্থ ও অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী রোলাঁ লেস্কুর বলেন, বর্তমান রূপে এই চুক্তি ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, শক্তিশালী ও কার্যকর সুরক্ষা ধারা নিশ্চিত করা ফ্রান্সের তিনটি প্রধান শর্তের একটি।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় কৃষকদের ওপর যে উৎপাদন মানদণ্ড আরোপ করা হয়, তা মারকোসুর দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে হবে এবং যথাযথ আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, তুলনামূলকভাবে কম কঠোর মানদণ্ডের কারণে এই চুক্তি তাদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং ইতোমধ্যে দুর্বল ইউরোপীয় খাদ্যখাত আরও চাপে পড়বে।
লেস্কুর স্পষ্ট করে বলেন, এই তিনটি বিষয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ফ্রান্স চুক্তিতে সম্মতি দেবে না।
ইইউ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভোট দিতে পারে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও কৃষকদের আশ্বস্ত করতে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য বাণিজ্যে মারকোসুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার ইইউ। ২০২৪ সালে মারকোসুরে ইইউর রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৭ বিলিয়ন ইউরো। পাশাপাশি ২০২৩ সালে মারকোসুর অঞ্চলে ইইউ ছিল সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী, যার বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯০ বিলিয়ন ইউরোতে।
এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইইউ ও মারকোসুর মিলে প্রায় ৭২২ মিলিয়ন মানুষের একটি যৌথ বাজার গড়ে উঠতে পারে।
















