পিরোজপুরের জিয়ানগরে আর্থিক লেনদেন ও টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রধান শিক্ষককে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী মো. মনির হোসেন ও তার ছেলে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই হামলায় ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান ইব্রাহিম (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার গাজীবাড়ির সামনে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষকের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় এক বছর আগে জমি বিক্রির পর মনির হোসেন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঘটনার দিন সেই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মনির তাকে কৌশলে বাড়ির সামনে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর মনির হোসেন ও তার ছেলে লোহার লাইট দিয়ে অতর্কিতভাবে তার ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত প্রধান শিক্ষককে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত মনির হোসেন পূর্বে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল মালেক হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনির হোসেন। তার দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা ধার নেননি। ওই রাতে প্রথমে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বাত খান জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রেকিং নিউজ :


























