বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করতে না পারায় চট্টগ্রামের বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো–অর্থাৎ অফডক মালিকেরা ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নেওয়া এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে সারাদেশের রফতানি খাতে। ডিপোগুলোতে শিপিং লাইনগুলোকে কন্টেইনার পাঠানো বন্ধ করতে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
ডিপো মালিকদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৈরি পোশাকসহ সব রফতানিমুখী শিল্পের পণ্য জাহাজীকরণ বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি খালি কন্টেইনার বা এমটি হ্যান্ডলিংও স্থবির হয়ে পড়বে। চট্টগ্রামের ১৯টি অফডক শতভাগ রফতানি পণ্য, খালি কন্টেইনারের বড় অংশ এবং বহু আমদানি পণ্যের হ্যান্ডলিং পরিচালনা করে। এ অবস্থায় ডিপো কার্যক্রম বন্ধ হলে পুরো বন্দর কার্যক্রমই বিপর্যস্ত হতে পারে।
অফডক সূত্র জানায়, কন্টেইনার স্টাফিং, গ্রাউন্ড রেন্ট, লিফট অফ-লিফট অন, ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন সেবায় ৩০ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিকডা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিলেও বন্দর ব্যবহারকারীদের আপত্তি ও আদালতের নির্দেশে তা স্থগিত হয়। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সমঝোতার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে, এবং মন্ত্রণালয় জানায় ট্যারিফ কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া নতুন মাশুল কার্যকর করা যাবে না।
তিন মাস লোকসানের অভিযোগ তুলে অফডক মালিকেরা একতরফাভাবে রফতানি ও খালি কন্টেইনার অপারেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্ট বা বন্দরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিকডা সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বহু বছর মাশুল না বাড়ায় খরচ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। আদালত ও মন্ত্রণালয়ের বাধায় নতুন ট্যারিফ কার্যকর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মালিকেরা লোকসান এড়াতে স্বাধীনভাবে কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিকডার সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো তথ্য তারা পাননি। আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী ট্যারিফ নির্ধারণে কমিটির সম্মতি ছাড়া একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয়ও ডিপো মালিকদের তা জানিয়েছে।
এক শিপিং এজেন্ট কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের কাছে কন্টেইনার পাঠানো বন্ধের অনুরোধ দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোতে এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
রফতানি নির্ভর অর্থনীতির এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অফডকের অঘোষিত কর্মবিরতি দেশের রফতানি প্রবাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
















