ডলার সংকট শিথিল ও ঋণপত্র খুলে আমদানিতে ঝাঁপ—খাতুনগঞ্জে মজুত বেড়েছে, পাইকারি বাজারে ছোলা-মটর ও চিনি কমছে; ভোক্তাদের জন্য রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
রমজানের প্রায় দু’ মাস আগে থেকেই খাতুনগঞ্জে ছোলা, মটর, মসুর, খেজুর, ভোজ্যতেল ও চিনি বড় চালান আসছে; আমদানির কারণে পাইকারি দামে ঊর্ধ্বগতি থেমে নিচে নামতে শুরু করেছে — ব্যবসায়ী ও বন্দরের তথ্য।
রমজানের দুই-তিন মাস আগেই দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ পাইকারি আড়ত খাতুনগঞ্জে রমজানভোগ্যপণ্যের আগাম সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ও সরকারি কাস্টমসের পরিসংখ্যান বলছে, ছোলা, মটর, মসুর, খেজুর, ভোজ্যতেল ও চিনি—এই সব পণ্যের বড় বড় চালান গত কয়েক সপ্তাহে বন্দরে খালাস হতে শুরু করেছে। ডলারের বাজার স্থিতিশীল হওয়া ও নীতি-বাধার অনেকটাই দূর হওয়ায় আমদানিকারকরা পুনরায় ঋণপত্র (এলসি) খুলে যথেচ্ছ আমদানি শুরু করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মটর আমদানির পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। একই সময় ছোলা এবং চিনি আমদানিও বড় আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে—ফল হিসেবে পাইকারি বাজারে ছোলা-মটরসহ বেশিরভাগ ডাল ও চিনি দাম কমার প্রবণতায় এসেছে। খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, গত বছরের একই সময়ে তুলনায় মজুত এখন বেশি; ফলে রমজানের চাপে দাম তেমন বাড়বে না বলে তাদের ধারণা।
পাইকারি বাজারে বর্তমানে ছোলার কেজি মূল্য প্রায় ৮৩ টাকা; এক মাস আগের তুলনায় এতে বড় ঘাটতি নেমে এসেছে। মটর ডালের পাইকারি মূল্যও কিছুদিন আগের ৪৭–৪৮ টাকা থেকে বর্তমানে প্রায় ৪০–৪৩ টাকায় নেমে আসছে। চিনি ও ভোজ্যতেলের জাহাজচালানও নিয়মিত থাকায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে চিনি-তেলের মন্দা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—বন্দরে একাধিক জাহাজে হাজার হাজার টন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
বন্দর ও ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও ডাল ও চিনি এসেছে; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মটর, ছোলা ও পরিশোধিত চিনি এসেছে। অনেক জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছেছে এবং ধাপে ধাপে খালাস হচ্ছে—যা পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ বাড়াবে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, আমদানির এই অতিরিক্ত সরবরাহ ও নতুন এলসি খোলার ফলে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালে থাকবে। এম কে ট্রেডিংয়ের মালিক মুহাম্মদ রফিকুল আলমের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে চিনির দাম ও সয়াবিন তেলের দাম আগের তুলনায় নীচে রয়েছে; বাজারে মজুদ ভালো থাকায় মূল্য স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আড়তদারেরা আশাবাদী—রোজা উপলক্ষে সরবরাহ বিচ্ছিন্নতা না থাকলে তালিকাভুক্ত পণ্যগুলোর দাম তীব্রভাবে বাড়বে না।
তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে একই চিত্র নেই। কিছু খাদ্য ও মসলার সরবরাহ এখনও নির্ভর করে মৌসুম ও সরবরাহ-শৃঙ্খলের ওপর; পাশাপাশি আমদানির খরচ, পরিবহন ও শুল্কের ওঠা-নামাও শেষ পর্যন্ত খুচরা মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ক্রেতাদের জন্য গড়ে ওঠা সুবিধার সঙ্গে-সঙ্গে বাজার তদারকি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সমন্বয় রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা।
সামগ্রিকভাবে, রমজানকে সামনে রেখে আগাম আমদানির ঢেউ এবং বন্দরে মজুদ বৃদ্ধির ফলে খাতুনগঞ্জে ঘাটতি-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে; সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয় থাকলে এই প্রক্রিয়াটি ভোক্তা পর্যায়ে রোজার সময় দাম প্রভাবিত করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
















