উত্তর দিকের ঠান্ডা বাতাসে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বাড়ছে শীতের তীব্রতা; শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
দিনাজপুরে মৌসুমের তীব্র শীত নেমে এসেছে। সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডা বাতাসে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
দিনাজপুরে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। বুধবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা এ মৌসুমের অন্যতম কম তাপমাত্রা। বাতাসের আর্দ্রতা ৯১ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলাতেও তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২.২ ডিগ্রি, রাজারহাটে ১২.৩, রাজশাহীতে ১২.৭, সৈয়দপুরে ১২.৮ এবং বদলগাছিতে ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ বাড়ায় শীতের ঝাঁজ আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে আরও বাড়তে পারে।
শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সকালে কাজে বের হতে গিয়ে তীব্র ঠান্ডায় কাঁপতে হচ্ছে বলে জানান শ্রমিক রফিকুল ইসলাম। রিকশাচালক মজিবর রহমানের ভাষায়, “শীতে যাত্রী কম থাকে, রাস্তাও ফাঁকা থাকে—রোজগারও কমে যাচ্ছে।”
মেডিকেল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শীতে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়তে পারে। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাইরে বের হলে উষ্ণ কাপড় পরা এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন পুরোপুরি শীত প্রস্তুতি শুরু করলেও তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
















