SEO সাবহেদুদক বলছে—টিউলিপসহ শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির প্রমাণ ‘স্পষ্ট, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সাক্ষ্যসমর্থিত’।
টিউলিপ সিদ্দিকের সাজা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দুদক জানিয়েছে—সব প্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালতের রায় যথাযথ। প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটানোসহ দুর্নীতির অভিযোগে তার সম্পৃক্ততা ‘পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত’।
রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহল ও গণমাধ্যমে যে প্রশ্ন উঠেছে—তার জবাবে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচিত মামলাগুলোর সব প্রসিকিউশন উপকরণ পুনর্মূল্যায়নের পর কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে অভিযোগগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণে ‘সম্পূর্ণভাবে সমর্থিত’।
দুদক জানায়, মামলার নথিতে স্পষ্ট যে টিউলিপ সিদ্দিকী তার খালা শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রভাবিত করে নিজের মা, ভাই-বোন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য মূল্যবান প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেছিলেন। একটি মামলায় তিনি নিজেও অতিরিক্ত প্লট পেয়েছিলেন, যখন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, কর্মকর্তা-কর্মচারীর হলফনামা এবং বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র—সবকিছুই টিউলিপ সিদ্দিকীর ‘সক্রিয় সম্পৃক্ততা’ প্রমাণ করে বলে মন্তব্য করেছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, ঢাকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঞ্চলে সরকারি খাস জমি পরিবারের সদস্যদের বরাদ্দ করানো ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, যা পেনাল কোডের একাধিক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
দুদক আরও উল্লেখ করে, টিউলিপ সিদ্দিকীর নামে লন্ডনের একাধিক সম্পত্তির সঙ্গে অফশোর আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে—যা তার আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কমিশন দাবি করেছে, তিনি অনুপস্থিতিতে বিচার এড়ানোর চেষ্টা করেছেন, যদিও আদালতে হাজিরা বা আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তাকে দেওয়া হয়েছিল।
প্রেস বিবৃতিতে দুদক জানায়, “উপস্থাপিত সব তথ্য, নথি ও সাক্ষ্য বিবেচনায় টিউলিপ সিদ্দিকী দুর্নীতির সহায়তা, প্ররোচনা এবং সুবিধাভোগী হিসেবে গভীরভাবে জড়িত—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।”
মামলার রায়কে ‘প্রহসন’ বলার টিউলিপ সিদ্দিকীর বক্তব্যও ‘তথ্যবিচ্যুত’ বলে উল্লেখ করে দুদক জানায়—রায় পুরোপুরি আইনের ভিত্তিতে, উপস্থাপিত প্রমাণের আলোকে দেওয়া হয়েছে।
















