কৃষ্ণসাগরের গভীর নীল জলের বুকে আবারও আলোড়ন। তুরস্কের উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা রাশিয়ার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার মিদভোলগা–২ আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটিই তৃতীয় রুশ জাহাজে হামলার ঘটনা, যা সমুদ্রপথে চলমান অদৃশ্য এক উত্তাল লড়াইয়ের ছায়া ফেলেছে গোটা অঞ্চলে।
তুরস্কের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্যাঙ্কারটি সূর্যমুখীর তেল নিয়ে জর্জিয়ার পথে যাচ্ছিল। আক্রমণের খবর দিয়েও জাহাজটি কোনো সাহায্য চাননি, বরং ধীরে ধীরে সাইনোপ বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৩ জন নাবিকই অক্ষত রয়েছেন। তুর্কি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে আত্মঘাতী ড্রোন।
গত শুক্রবারই ইউক্রেন লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল রাশিয়ার আরও দুটি জাহাজ—কাইরোস এবং বিরাট। কিয়েভের দাবি, এগুলো রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ছদ্মপতাকায় কোটি কোটি ইউরোর তেল পরিবহন করে বিদেশি বাজারে দিচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে ১১ মিলিয়ন টন রুশ অপরিশোধিত তেল সরিয়েছে এসব জাহাজ।
এ ঘটনার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়েপ এরদোয়ান কড়া ভাষায় বলেন, কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা যুদ্ধকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, নিজের সামুদ্রিক সীমায় নিরাপত্তাহীনতা—এটি মেনে নেওয়া অসম্ভব।
নাটোর সদস্য তুরস্ক যুদ্ধজুড়ে চালিয়ে যাচ্ছে সূক্ষ্ম ভারসাম্য। কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দিলেও মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি। বরং দু’পক্ষের মধ্যেই মধ্যস্থতা করতে চেয়েছে আঙ্কারা। তাই নিজস্ব এলাকা ঘিরে হুমকি তারা সহ্য করতে রাজি নয়।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লক্ষ্য স্পষ্ট—রুশ তেলশিল্পকে ভেঙে দিতে হবে। কারণ সেই অর্থেই টিকে আছে যুদ্ধের আগুন। তাই রাশিয়ার রিফাইনারি থেকে শুরু করে তেলবাহী জাহাজ—সবই এখন কিয়েভের অস্ত্রধারী ড্রোনের নিশানায়।
মস্কো অভিযোগ তুলেছে, কৃষ্ণসাগরে এসব হামলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সমুদ্রপথের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়ার ওরিওল অঞ্চলে একটি তেল স্থাপনায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায়—আরও একটি ঝড়, যা ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্ত পার হয়ে।
যুদ্ধের কুয়াশার ভেতর দিয়ে কেবল স্পষ্ট হয় একটি দৃশ্য—কৃষ্ণসাগরের জল আর শান্ত নয়, সেখানে এখন ভাসছে জ্বলে ওঠা আগুনের প্রতিচ্ছবি, আর অদৃশ্য এক সংঘর্ষের ভারী নীরবতা।
















