TTP–ARSA-র অনলাইন হুমকি, ক্যাম্পে অস্ত্র–সহিংসতা বৃদ্ধি—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নতুন সংকটের ইঙ্গিত।
রোহিঙ্গা শিবিরে উগ্রবাদী কার্যক্রম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোয়েন্দা তৎপরতায় ঘাটতি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫:
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের স্পর্শকাতরতার সুযোগে শিবিরগুলোতে উগ্রপন্থিদের সক্রিয়তা বেড়ে উঠছে—এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক তথ্য। মানবিক সহায়তার পরিসর বাড়ানো সত্ত্বেও নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক, স্থানীয় অধিবাসী ও দাতা সংস্থাগুলো।
দেশীয় নিরাপত্তা সংস্থা বলছে, পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (ARSA) কার্যক্রম নজরদারিতে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তাদের দাবিকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে TTP-সংযুক্ত একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়, যেখানে বাংলাদেশি আলেমদের জিহাদি কর্মকাণ্ডে ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগ তুলে উগ্রপন্থি পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়।
তিন মিনিটের ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে একাধিক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বা সক্রিয় হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যাম্পে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি, তদন্তে সীমাবদ্ধতা, সহিংসতা ও মাদক বিস্তারের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয়দের মতে, ক্যাম্প এলাকায় অস্ত্র ও অপরাধ চক্রের বিস্তার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, মানবিক সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও তরুণদের বিপথগামিতা বন্ধ না হলে সংকট আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় রূপ নিতে পারে। এ কারণে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না মিললে বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো উগ্রবাদ বিস্তারের আশঙ্কা নাকচ করছে, তবে ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের নিয়মিত ধরা পড়া, জন্মনিবন্ধন–এনআইডি–পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অপরাধে জড়ানোর ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরছে। এসব কারণে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগে ঘাটতি থাকলে যেকোনো শরণার্থী শিবির দুর্বৃত্তচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে—যা সরাসরি সার্বভৌমত্বের হুমকি। তাদের মতে, ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদ সাধারণ মানুষের মানসিক দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতাও জরুরি, যাতে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক কোথাও শেকড় গড়তে না পারে।
















