দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সহায়তা কার্যক্রম চালাতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা ব্যস্ত থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই।
ভিয়েতনামে সোমবার আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১-এ। থাইল্যান্ডে আরও পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শক্তিশালী বর্ষণ আবারও ফিরে আসতে পারে। দেশের ১০ কোটির বেশি মানুষের প্রায় অর্ধেকই বন্যা প্রবণ অঞ্চলে বাস করে, ফলে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ড্যাক লাক প্রদেশেই সর্বাধিক প্রাণহানি হয়েছে, যেখানে অন্তত ৬৩ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
খানহ হোয়া, লাম ডং, জিয়া লেই, দানাং, হুয়ে এবং কোয়াং ত্রি প্রদেশেও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে পাহাড়ি ভূমিধস এবং তীব্র বন্যা নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
অবিরাম বর্ষণে ভিয়েতনামে অন্তত ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। শহরের বড় বড় এলাকা পানিতে ডুবে গেছে, কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে, বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সরকার কয়েক হাজার সদস্যের উদ্ধার দল মোতায়েন করেছে। দুর্গম ও উচ্চভূমি এলাকায় হেলিকপ্টারে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াতে সড়কে পানি জমে যান চলাচল অচল হয়ে পড়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুক্রবার সঙখলা প্রদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হাত ইয়াই শহরে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৩০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বর্ষণ। তিন দিনের মোট বর্ষণ ছিল তারও দ্বিগুণ। আগামী দিনগুলোতেও আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
গত এক বছর ধরে থাইল্যান্ডে তীব্র বর্ষণে বারবার বন্যা দেখা দিয়েছে এবং গত ডিসেম্বরেই অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
মালয়েশিয়ায় সোমবার পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি কেলান্তান প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে ৮ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কারণে ঘরছাড়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষাকালে বন্যা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এ বছর বর্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ ধরনের চরম আবহাওয়া বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
















