— প্রয়াণে শোকাহত জাতি, প্রধান উপদেষ্টা বললেন “সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার অপূরণীয় ক্ষতি”
বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রবীণ সৈনিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র-গবেষক আহমদ রফিক চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
২ অক্টোবর রাত, রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।
প্রধান উপদেষ্টার শোকবার্তা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন—
“আহমদ রফিকের মৃত্যু দেশের সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি শেষ দিনগুলো পর্যন্ত কাজ করে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কণ্ঠস্বর ছিলেন আহমদ রফিক। একইসাথে তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক এবং রবীন্দ্র-অধ্যয়নের এক প্রজ্ঞাবান পথপ্রদর্শক। শতাধিক গ্রন্থে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে। রবীন্দ্র-গবেষণায় তাঁর অবদান দুই বাংলাতেই সমাদৃত হয়। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।”
প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করে বলেন, “আহমদ রফিকের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শতাধিক গ্রন্থ রচনা করে আহমদ রফিক সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে। রবীন্দ্র-গবেষণায় তাঁর অবদান দুই বাংলাতেই সমাদৃত হয়। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।”
শোকবার্তায় ইউনুস বলেন—
“আহমদ রফিকের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।”
সাহিত্য ও গবেষণার দীর্ঘ পথচলা
আহমদ রফিক শুধু কবি নন, ছিলেন এক নিরলস প্রাবন্ধিক। তিনি লিখেছেন শতাধিক গ্রন্থ—যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে গবেষণা।
তাঁর কলমে উঠে এসেছে রবীন্দ্রচিন্তার দার্শনিকতা, আধুনিকতাবোধ এবং বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
রবীন্দ্র-অধ্যয়নে তিনি ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য দিশারি। গবেষক সমাজ তাঁকে অভিহিত করেছে “রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য” হিসেবে। তাঁর ব্যাখ্যায় রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি নন, ছিলেন যুগদ্রষ্টা।

ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণ
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তরুণ আহমদ রফিক ছিলেন সক্রিয় কণ্ঠস্বর। সেই সময়ের মিছিল-মাঠে তাঁর পদচারণা, সাহসী অংশগ্রহণ তাঁকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এক আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে তিনি নথিবদ্ধ করেছেন তাঁর লেখনিতে, যা আজ গবেষক ও পাঠকের জন্য অমূল্য দলিল।
বাঙালি সংস্কৃতির অগ্রপথিক
সাহিত্য, সংস্কৃতি আর মুক্তচিন্তার প্রতিটি অঙ্গনে আহমদ রফিক রেখেছেন গভীর ছাপ। তাঁর প্রবন্ধে যেমন ছিল কঠিন সত্য উচ্চারণ, তেমনি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান।
তাঁর কলম আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—ভাষার অধিকার, সংস্কৃতির মর্যাদা ও চিন্তার স্বাধীনতা কোনোটিই অবহেলার বিষয় নয়।
সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
আহমদ রফিকের প্রয়াণে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন—
“তিনি ছিলেন এক চলমান বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর চলে যাওয়া এক অমূল্য শূন্যতা তৈরি করল, যা পূরণ হবার নয়।”
বিদায়, অথচ অনন্ত স্মরণ
আহমদ রফিক আজ আর নেই। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর সংগ্রাম আর মুক্তচিন্তার বাণী বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।
ভাষা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ দিন থেকে শুরু করে রবীন্দ্রচিন্তার সোনালি আলো ছড়ানো পর্যন্ত—আহমদ রফিকের পথচলা আমাদের জাতীয় স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে চিরকাল।















