ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে কঠোর নিয়ম আনতে ডিসিদের পরামর্শ
দেশজুড়ে ওয়াজ মাহফিলকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ বাড়ায় ডিসিরা নির্বাচন আচরণবিধিতে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধের বিশেষ শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলকে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ বানানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মাঠ প্রশাসনের। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা নির্বাচন আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন।
ডিসিরা জানান—সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ওয়াজ মাহফিলে দলীয় নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক বার্তা ছড়াচ্ছেন, যা মাঠে উত্তেজনা ও সংঘাত বাড়াচ্ছে। তারা বলেন—ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে প্রচারমঞ্চ হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে আচরণবিধিতে কড়া নির্দেশনা প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানালেন—প্রস্তাবটি “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” এবং কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি আরও জানান—ওয়াজ মাহফিলের অনুমতিপত্রে রাজনৈতিক বক্তব্য নিষিদ্ধের শর্ত যুক্ত করা যেতে পারে।
বৈঠকে আরও আলোচনায় আসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। ডিসিরা সতর্ক করেন—যারা রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেন, তারাই আবার নির্বাচনের দিন প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; যা ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত করতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের এক ডিসি বলেন—সরকারি বেতনভুক্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে নির্বাচনী কেন্দ্রে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, গণপূর্ত ও আইন উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
















