প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে রাজউক বা এনএইচএর অনুমতি আর লাগবে না। হয়রানি ও দুর্নীতি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বিধিমালা চালু করেছে। মালিকানা হস্তান্তর, নামজারি ও দলিল প্রক্রিয়া এখন হবে সহজ ও স্বচ্ছ।
রাজউক–এনএইচএসহ সব কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিল, প্রকাশিত হলো নতুন ৭ দফা বিধিমালা
বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন ও আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় সংস্কার ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজউক, এনএইচএ বা অন্য কোনো লিজদাতা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই এখন থেকে প্লট বা ফ্ল্যাট বিক্রি, দান, বন্ধক বা নামজারি করা যাবে—সোমবার জারি করা গেজেটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন এই বিধিমালা দুর্নীতি, ফাইল আটকে রাখা, অনুমতির নামে হয়রানি এবং বছরের পর বছর দীর্ঘসূত্রতা সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে—উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান, হেবা বা বন্ধক—কোনো ক্ষেত্রেই আর অনুমতি লাগবে না। তবে ব্যবহার পরিবর্তন, প্লট একত্রিকরণ বা বিভাজনের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী হস্তান্তরের সময় দলিল মূল্যের নির্দিষ্ট হারে ফি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিতে হবে, এবং সেই ফি সরকারের অনুকূলে নন-ট্যাক্স রেভিনিউ হিসেবে যাবে। দলিল সম্পাদনের পর বিক্রেতা ও ক্রেতাকে ৯০ দিনের মধ্যে নথি লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে, না করলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
এছাড়া, ৯৯ বছরের লিজ মেয়াদ শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নকৃত বলে গণ্য হবে—এ বিধানও প্রথমবারের মতো যোগ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বলছে—এটি শুধু জমি-বাড়ির বাজারই নয়, পুরোপুরি প্রশাসনিক সংস্কারের একটি মাইলফলক, যেখানে দুর্নীতি কমবে এবং নাগরিকের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।
















