Dhaka ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংক খাত: অতীতের লুটপাট ও উত্তরণের পথ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

অতীতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সে সময় প্রণীত যুগোপযোগী ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’-এর মূল ভিত্তি ছিল প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সম্মান জানানো এবং তাদের মেধা ও মূলধনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে মজবুত করা। ফলে দেশে শিল্পের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটে এবং ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আস্থার নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে মূলধন পেয়ে উৎপাদন খাত সচল রাখেন, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি গতিশীল হয়।

কিন্তু বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হীন স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনে লাগাতার সংশোধন আনা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে দেশের অভিজ্ঞ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের আইনি কৌশলে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় অনভিজ্ঞ ও লুটেরা চক্রকে। এর ফলে পুরো ব্যাংক খাত তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকের আমানতের একটি বিশাল অংশ ভুয়া ঋণ হিসেবে তুলে নেওয়া হয় এবং বিদেশে পাচার করা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ফলে ব্যাংক খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনারও তীব্র সংকট তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আর্থিক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংক খাত: অতীতের লুটপাট ও উত্তরণের পথ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

অতীতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংক খাতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সে সময় প্রণীত যুগোপযোগী ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’-এর মূল ভিত্তি ছিল প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সম্মান জানানো এবং তাদের মেধা ও মূলধনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে মজবুত করা। ফলে দেশে শিল্পের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটে এবং ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আস্থার নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে মূলধন পেয়ে উৎপাদন খাত সচল রাখেন, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি গতিশীল হয়।

কিন্তু বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হীন স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনে লাগাতার সংশোধন আনা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে দেশের অভিজ্ঞ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের আইনি কৌশলে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় অনভিজ্ঞ ও লুটেরা চক্রকে। এর ফলে পুরো ব্যাংক খাত তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকের আমানতের একটি বিশাল অংশ ভুয়া ঋণ হিসেবে তুলে নেওয়া হয় এবং বিদেশে পাচার করা হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় একের পর এক নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ফলে ব্যাংক খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনারও তীব্র সংকট তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আর্থিক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।