জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর চার দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর সেটিকে স্থিতিশীল রাখতে বিরল এক যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিতভাবে ইয়েন কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জাপানের অনুরোধে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটন এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ও যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইয়েনের মূল্য দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ইউরো ও ব্রিটিশ মুদ্রার বিপরীতেও ইয়েনের শক্তিশালী অবস্থান দেখা যায়।
তবে ইয়েনের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক আগের দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেকে সরে গিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের দীর্ঘমেয়াদি দরপতন আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে জাপানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে জাপান।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছে।
এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াও নিজস্ব মুদ্রার দর সমর্থনে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে।
















