ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির অংশ হিসেবে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ধাপে ধাপে একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলা হলেও, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
ইসরায়েলের ডানপন্থী নেতারা চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা উচিত নয়। বিরোধী শিবিরের অনেক নেতাও একই অবস্থান নিয়েছেন এবং এই ধরনের কোনো সমঝোতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস পর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন না, যা তাঁর জোট সরকারের স্থিতিশীলতা বা নির্বাচনী সমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহু হয়তো সীমিত পরিসরে কিছু প্রতীকী সামরিক পুনর্বিন্যাস করতে পারেন, তবে পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম। ফলে হামাস নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
















