ইরানের একটি বিমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনের নাজুক শান্তি পরিস্থিতি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হলে ইয়েমেন নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়, একটি ইরানি বিমান ইয়েমেনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে সানায় অবতরণের চেষ্টা করলে বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। পরে বিমানটি হোদেইদায় অবতরণ করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব এই ঘটনাকে ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও হুথিরা এটিকে সানার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভাঙার উদ্যোগ বলে দাবি করে।
এর জবাবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালায়। ২০২২ সালের মার্চে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের প্রথম স্বীকৃত হামলা। তবে সৌদি আরব এখনো পূর্ণমাত্রার সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যা উভয় পক্ষের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। একই সময়ে সৌদি সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ইরানপন্থী হুথিরা। এ কারণে মারিব, আল-জাওফ ও হারফ সুফিয়ানসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ ওমানে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছেন। যদিও স্বল্পমেয়াদে শান্তি বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে, বিশ্লেষকদের মতে, মূল সংকটের কারণগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে ইয়েমেনকে সেই সংঘাতের বাইরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।















