বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৯ জুন সংসদে কর ও শুল্কসংক্রান্ত অর্থ বিল-২০২৬ অনুমোদিত হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজেটের বিভিন্ন কর ও আর্থিক নীতি কার্যকর হবে।
নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সফলতা বরাদ্দের আকারে নয়; বরং বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এর কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।
প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে এমন কিছু কর ও ভ্যাট প্রস্তাবে সরকার প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখাবে।
অন্যদিকে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দের কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাকে সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে নতুন বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
















