ভারতীয় সেনাবাহিনী আগামী জুলাই থেকে প্রথমবারের মতো ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ (IBG) কার্যকর করতে যাচ্ছে। দ্রুত মোতায়েন সক্ষম, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমন্বিত যুদ্ধ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে পশ্চিমবঙ্গের পানাগড়ে অবস্থানরত ১৭তম মাউন্টেন স্ট্রাইক কর্পস (XVII Corps)-এর অধীনে চারটি আইবিজি এবং একটি পৃথক ফায়ার সাপোর্ট গ্রুপ গঠন করা হবে। এগুলো মূলত চীন সীমান্তসংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় দ্রুত যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে জুলাই থেকেই চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি আইবিজিতে পাঁচ হাজারের বেশি সেনাসদস্য থাকবে এবং এতে পদাতিক, আর্টিলারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, চিকিৎসা এবং অন্যান্য সহায়ক ইউনিট একীভূত থাকবে। এসব ইউনিট মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং স্বতন্ত্রভাবে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুদ্র ব্রিগেড, ভৈরব ব্যাটালিয়ন, দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি এবং শক্তিবাণ ইউনিট গঠনের কাজও চলছে। আইবিজির লক্ষ্য হলো প্রচলিত বড় কর্পস মোতায়েনের পরিবর্তে কম সময়ে সমন্বিত যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী মাঠে নামানো, যাতে সীমান্ত অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।
এই আইবিজি ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও একাধিক সামরিক মহড়ায় পরীক্ষার পর এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাহিনী গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
















