দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিরোধী সহিংসতার মুখে হাজারো মালাউই নাগরিক নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গড়া সঞ্চয়, ঘরবাড়ি ও জীবিকার সবকিছু হারিয়ে খালি হাতে দেশে ফিরেছেন। মালাউই সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
২৭ বছর বয়সী জ্যানেট কাপিটো ২০২২ সালে উন্নত জীবনের আশায় দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল উপার্জিত অর্থ দিয়ে মালাউইতে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা। কিন্তু বিদেশিবিরোধী হামলার কারণে আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। ফেরার পথে বাসে তাঁর সঙ্গে থাকা সামান্য মালপত্রও চুরি হয়ে যায়। বর্তমানে সরকারের দেওয়া সীমিত আর্থিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তিনি।
মালাউই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে প্রায় ৬ হাজার ৯০০-এর বেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ হাজারের বেশি মালাউই নাগরিককে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও হাজারো মানুষ দেশে ফিরবেন।
ফিরে আসা ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সহিংসতার সময় প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। কারও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও সব সম্পদ লুট হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, তারা আর দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে চান না; বরং নিজ দেশেই ছোট ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজ শুরু করতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিরোধী উত্তেজনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনের অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই সঙ্গে মালাউইর মতো উচ্চ বেকারত্বের দেশগুলোর জন্য বিপুলসংখ্যক প্রত্যাবাসিত নাগরিকের পুনর্বাসন বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















