ইউরোপে যখন আধুনিক সংবাদপত্রের সূচনা হচ্ছিল, তখন মুঘল ভারতে গড়ে উঠেছিল নিজস্ব এক বিস্তৃত সংবাদ নেটওয়ার্ক। ১৬শ শতকের শেষভাগ থেকে ‘আখবারাত’ নামে পরিচিত হাতে লেখা পার্সি ভাষার সংবাদপত্রে রাজদরবারের সিদ্ধান্ত, সামরিক অভিযান, প্রশাসনিক নিয়োগ, আর্থিক তথ্য, এমনকি দরবারের গুঞ্জনও নিয়মিত লিপিবদ্ধ করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের ইতিহাসবিদ মুনিস ডি ফারুকি প্রায় দুই দশক ধরে এসব আখবারাত নিয়ে গবেষণা করেছেন। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারসহ ভারত ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংরক্ষণাগারে থাকা ৬,৫০০-এর বেশি পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করে তিনি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলের নতুন চিত্র তুলে ধরেছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, এসব সংবাদ শুধু রাজকীয় আদেশ নয়; বরং পুরো সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামরিক তৎপরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রাদেশিক পরিস্থিতির প্রায় দৈনন্দিন বিবরণ সংরক্ষণ করত। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে সুসংগঠিত তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানের ব্যবস্থাগুলোর একটি ছিল।
ফারুকির গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, আওরঙ্গজেবকে ঘিরে প্রচলিত অনেক ধারণা নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপক ধর্মান্তরের সুস্পষ্ট প্রমাণ তিনি পাননি। পাশাপাশি সম্রাটের কন্যা জিনাত-উন-নিসা রাজদরবারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতেন, যা আগে খুব কমই আলোচিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আখবারাতের বিশাল ভাণ্ডার এখনও পর্যাপ্তভাবে গবেষণা করা হয়নি। এসব নথি থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রশাসন, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
















