যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, এতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত করায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম ইতোমধ্যে চুক্তিটিকে “অবৈধ, অপমানজনক এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে এবং অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হলে ইসরায়েল পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা সরাবে। তবে এতে ইসরায়েলের অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহারের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বজায় থাকলে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চল ধরে রাখবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে “প্রথম পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চুক্তির বিরোধিতা করে বৈরুতে রাস্তায় নেমেছেন হিজবুল্লাহ সমর্থকরা। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েল আগে দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নই ওঠে না। হিজবুল্লাহর একজন সংসদ সদস্য সতর্ক করে বলেছেন, জোরপূর্বক এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে দেশ গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সেই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও, নতুন চুক্তিতে যুদ্ধবিরতিকে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে হিজবুল্লাহর সম্মতি ছাড়া এ চুক্তির বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন হবে এবং নতুন সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
















