ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের পানি উপচে পড়ার (গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড-জিএলওএফ) আশঙ্কায় পাকিস্তানজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, নগর বন্যা ও পাহাড়ি দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে গিলগিট-বালতিস্তানের হুনজা ও স্কার্দু এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও আশপাশের শহরেও জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান চলতি বছর টানা চতুর্থবারের মতো কঠিন মৌসুমি বৃষ্টির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়, প্রাণ হারান প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে। গত বছরও বন্যা ও বৃষ্টিজনিত দুর্যোগে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলছে। দেশটিতে প্রায় ১৩ হাজার হিমবাহ রয়েছে, যা মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের সর্বোচ্চ। গলিত বরফের কারণে গঠিত তিন হাজারের বেশি হ্রদের মধ্যে অন্তত ৩৩টি বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যার প্রভাবে ৭১ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চললেও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দুর্যোগ মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
















