মধ্য আফ্রিকার একটি দেশে ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে অন্তত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত গুরুতর এবং সংক্রমণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাস্থ্য খাতে অর্থের ঘাটতির কারণে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০০ এবং মৃতের সংখ্যা ২৩২ ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ দেশের ৩১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিরল ধরনের এই ভাইরাস কয়েক মাস ধরে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল। সরকারিভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা হওয়ার আগেই চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছিলেন। ফলে বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন।
এখনও অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দস্তানা, মুখোশ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা মাত্র ১১ জন, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশ চিকিৎসা সহায়তা দল পাঠাচ্ছে।
এদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার প্রতি অনীহার কারণে সেখানে সংক্রমণ অজান্তেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত একটি শিবিরে গত মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের মৃত্যুহার আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃতদের অনেকের মধ্যেই মাথাব্যথা, জ্বর ও বমির মতো ইবোলার সাধারণ উপসর্গ ছিল।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাদুর্ভাব এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে সংক্রমণ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
















