একসময় সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিতে একঘরে হিসেবে বিবেচিত কট্টর ডানপন্থী দলটি এখন দেশটির ক্ষমতার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দলটি ধীরে ধীরে জনসমর্থন বাড়িয়ে বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দলটির শিকড় কয়েক দশক আগে উগ্র ডানপন্থী ও শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং মূলধারার রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন, অপরাধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসা দলটি শরণার্থী সংকটের সময় ব্যাপক রাজনৈতিক সুবিধা পায়। অভিবাসন প্রশ্নটি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হলে তাদের জনপ্রিয়তাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তী নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য আসন অর্জন করে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ডানপন্থী দল তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে এবং সহযোগিতার পথ খুলে দেয়।
অবশেষে কয়েকটি ডানপন্থী দলের মধ্যে হওয়া একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়। যদিও দলটি সরাসরি সরকারে অংশ নেয়নি, তবুও সংসদে তাদের সমর্থনের ওপরই সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে দলটির সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আগে আপত্তি জানানো রাজনৈতিক নেতারাও অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। ফলে দলটি কার্যত দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রস্থলে চলে এসেছে।
অপরাধ দমন, শাস্তি কঠোর করা এবং অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের মতো বিষয়ে দলটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো কট্টর ডানপন্থী বক্তব্য গ্রহণ করায় অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলটির উত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সাফল্যের গল্প নয়; এটি সুইডেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। তবে আগামী নির্বাচন এই প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
















