বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে ভারত, কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতায় এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটির জাতীয় দল। প্রায় ১৪০ কোটির জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ভারতের অনুপস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে।
দেশটির ফুটবলপ্রেমী অঞ্চলগুলোতে বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক উৎসব দেখা গেলেও জাতীয় দল এখনো এশিয়ার বাছাইপর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ভারত কবে বিশ্বকাপে খেলবে?
সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির অন্যতম কিংবদন্তি ফুটবলারদের মতে, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অসম্ভব নয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শক্তিশালী তৃণমূল কাঠামো। তাদের দাবি, প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও উন্নয়ন কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অনেক পরিবার সন্তানদের ফুটবলের পরিবর্তে অন্য খেলায় বেশি উৎসাহিত করছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়েও ভারতের অবস্থান অনেক পিছিয়ে। এশিয়া থেকে এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর বেশিরভাগই ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
দেশটির ফুটবল প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বললেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। ঘরোয়া লিগের অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যিক অংশীদার সংকট এবং জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
তবে আশার জায়গাও রয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ এবং বিদেশে বেড়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ ভারতের জন্য অধরা স্বপ্ন হলেও ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে একদিন বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব দেখা যেতে পারে।
















