যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা ঘোষণার পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার লেনদেনের শুরুতেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরে আসায় বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের আগাম সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রযুক্তি ও বৃহৎ কোম্পানিভিত্তিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় সাড়ে চার শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ায় বাজারে এই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত থাকা জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ সেখানে আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক জাহাজ, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং সম্ভাব্য সামুদ্রিক মাইন অপসারণের মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম কমে গেলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণে আরও স্বস্তি পাবে।
যদিও বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই আশাবাদ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
















