ব্রাজিলে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় একদিনে ১০৮ জন কিউবান নাগরিককে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধে পরিচালিত একটি বড় অভিযান।
ব্রাজিলের বিচার ও জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী একটি রাজ্যে পরিচালিত এই অভিযানকে মানবিক উদ্ধার কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ওই অঞ্চলে একক ঘটনায় সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযানের মধ্যে অন্যতম।
তদন্তে জানা গেছে, অনেক কিউবান নাগরিক প্রতিবেশী একটি দেশকে প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করে ব্রাজিলে ঢোকার চেষ্টা করছেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে কিউবান অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিউবা গুরুতর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। এর ফলে দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিযানের সময় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক তিনটি অভিযানে বিভিন্ন যানবাহন ও একটি বাসা থেকে অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেকেই কয়েক দিন পর্যাপ্ত খাবার ছাড়া যাত্রা করেছিলেন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভ্রমণ করছিলেন। পরবর্তীতে সবাইকে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবা থেকে ব্রাজিলে অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর প্রথমবারের মতো কিউবান নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন সংখ্যা ভেনেজুয়েলানদের ছাড়িয়ে যায়। এক বছরে ৪০ হাজারেরও বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে কিউবা থেকে ব্রাজিলমুখী অভিবাসনের প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
















