পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি একসময় অঞ্চলের গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত।
সম্প্রতি দেশজুড়ে সমন্বিত হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হন।
নিচে মালির অস্থিরতার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১৯৬০: স্বাধীনতা লাভ
ফরাসি উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মোদিবো কেইতা দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করলেও অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়নি। ১৯৬৮ সালে সেনা অভ্যুত্থানে তার পতন ঘটে।
১৯৬৮-১৯৯১: সামরিক শাসন
মুসা ত্রাওরে দীর্ঘ ২৩ বছর ক্ষমতায় থেকে কঠোর শাসন কায়েম করেন। এই সময়ে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। ১৯৯১ সালে গণআন্দোলনের মুখে তার পতন ঘটে।
১৯৯২-২০১২: গণতন্ত্রের সময়কাল
নতুন সংবিধান ও নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। আলফা ওমর কোনারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার কিছুটা নিশ্চিত হয়। পরে আমাদু তুমানি তোরে ক্ষমতায় এলেও দুর্নীতি ও দুর্বল শাসন পরিস্থিতিকে আবার অস্থির করে তোলে।
২০১২-২০২০: অভ্যুত্থান ও নিরাপত্তা সংকট
২০১২ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের পর উত্তরাঞ্চলে তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা জঙ্গিদের সঙ্গে জোট বেঁধে নিয়ন্ত্রণ নেয়। ফরাসি সামরিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।
২০২০: নতুন সামরিক অভ্যুত্থান
আসিমি গোইতা নেতৃত্বে আবারও ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনগণের অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
২০২১-২০২৬: চলমান সামরিক শাসন
দ্বিতীয় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গোইতা ক্ষমতা সুসংহত করেন এবং এখনো সামরিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। ফরাসি বাহিনী প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হয় এবং রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী আনা হয়।
এই সময়ে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার একসঙ্গে আঞ্চলিক জোট গঠন করে এবং ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে যায়।
২০২৪ সালে তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি বাতিলের পর আবারও সহিংসতা বাড়ে। একই সঙ্গে জেএনআইএম ও তুয়ারেগ গোষ্ঠী যৌথভাবে হামলা চালাতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সামরিক সরকার অর্থনীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশটির পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
















