সেচ ব্যাহত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা; বৃষ্টির আশায় কৃষি বিভাগ
ফরিদপুরে পাট চাষের ভরা মৌসুমে তীব্র ডিজেল সংকট ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আবাদ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পেঁয়াজ তোলার পরপরই পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তত করতে সেচ অত্যন্ত জরুরি হলেও জ্বালানি সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চলতি মৌসুমে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
সংকটের নেপথ্যে ও বর্তমান চিত্র:
- বৈশ্বিক প্রভাব: ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে, যার সরাসরি শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
- সেচ ও অঙ্কুরোদগম বাধা: সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার কৃষকরা জানিয়েছেন, বীজ বোনার সময় মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা না থাকলে অঙ্কুরোদগম ঠিকমতো হয় না। ডিজেল ও বিদ্যুতের অভাবে সেচ দিতে না পারায় অনেক জমি ফেটে যাচ্ছে।
- ** বহুমুখী সমস্যা:** বোয়ালমারী এলাকার চাষিরা জানান, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি লোডশেডিং, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং সারের অভাব কৃষিকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ ও আশার আলো: কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে:
- ফুয়েল কার্ড: প্রকৃত কৃষকদের কাছে ডিজেল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রথা চালু করেছে।
- নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশন: ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হাসান মোল্লা জানিয়েছেন, কৃষকদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু ফিলিং স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডিজেল বিতরণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
- প্রাকৃতিক সমাধান: কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিপাত হলে সেচের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে এবং পাটের আবাদ রক্ষা পাবে।
ফরিদপুর জেলার মডেল কৃষক শাহিদা বেগম সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল পাট নয়, অন্যান্য রবি শস্যের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।
















