আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২,৯৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু আয় ২,৯৭০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন পরিবর্তন দেখা দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই খাতগুলো ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখছে।
অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং কিছু অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশটি এখনো বৃহৎ অর্থনীতির দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সাময়িকভাবে মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভারতের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার করায় সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়। এবার আইএমএফের নতুন পূর্বাভাসে আবারও বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও আরও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাথাপিছু জিডিপিতে সম্ভাব্য এই অগ্রগতি শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে এটি টেকসই করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভারসাম্যে এই পরিবর্তন আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরের নীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।
















