গণমাধ্যম শুধু একটি পেশা নয়, এটি গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এই ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় অনেকেই মনে করছেন, গত দুই দশকে দেশে গণমাধ্যমের ওপর চাপ, মামলা ও নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একে একটি বড় সংকটে ফেলেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একাংশ এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে পেশাগত স্বীকৃতিও হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈশ্বিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত প্রকাশের জবাব কখনোই দমন-পীড়ন হতে পারে না। বরং যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমেই মতবিরোধের সমাধান হওয়া উচিত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সমাজে সঠিক তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ কমে যায়। একই সঙ্গে সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
গণমাধ্যম সমাজের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এটি স্বাধীন না থাকলে সমাজের বড় একটি অংশের মতামত উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের ওপর অযৌক্তিক চাপ বন্ধ করা।
তাদের মতে, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে।
গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে পুনরুদ্ধার করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















