ইংলিশ লিগ শিরোপা দৌড়ে আবারও মুখোমুখি আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুম শেষের পথে, ব্যবধান খুবই কম—তবু একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠছে: আর্সেনালের উন্নতি হয়েছে, কিন্তু তারা এখনো ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখতে পারেনি।
মিকেল আর্তেতার অধীনে দলটি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থির ও আত্মবিশ্বাসী। তারা এখন সহজে হার মানে না এবং চাপহীন পরিস্থিতিতে বেশ দাপুটে ফুটবল খেলতে পারে। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে এসে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে।
মৌসুমের শুরুটা ছিল শক্তিশালী। রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়, গোল হজম কম। কিন্তু বড় ম্যাচে আক্রমণাত্মক মনোভাবের ঘাটতি চোখে পড়ে। যেমন লিভারপুলের বিপক্ষে হার কিংবা সিটির বিপক্ষে ড্র—এই ম্যাচগুলোতে সুযোগ থাকলেও পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়নি।
মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও আক্রমণে বুকায়ো সাকাদের পারফরম্যান্স দলকে শীর্ষে তুলেছিল। নতুন সংযোজন এবেরেচি এজে আক্রমণে সৃজনশীলতা বাড়ান। তবুও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পয়েন্ট হারানোর প্রবণতা কাটেনি।
ডিসেম্বরে অ্যাস্টন ভিলার কাছে হার, পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে পরাজয়—এসব ম্যাচ আবারও পুরোনো সমস্যাকে সামনে আনে। এরপর ব্রেন্টফোর্ড ও উলভারহ্যাম্পটনের সঙ্গে ড্র শিরোপা দৌড়কে আরও কঠিন করে তোলে।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরে আসে। নতুন খেলোয়াড়দের আগমনে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং চাপ তৈরি করতে শুরু করে।
যদিও আর্সেনাল এখনো শীর্ষে আছে, কিন্তু সিটির হাতে একটি ম্যাচ কম থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। শেষ মুহূর্তে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পুরোনো স্মৃতি আবারও ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আর্সেনাল এই মৌসুমে উন্নতির ছাপ দেখিয়েছে। কিন্তু শিরোপা জিততে হলে শুধু ভালো খেলা যথেষ্ট নয়—গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাই আসল চ্যালেঞ্জ, যেখানে তারা এখনো পিছিয়ে আছে।
















