
ঢাকা/নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, দেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য নয় এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি এই ধরনের ব্যাপক সহিংসতার দাবিগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ এবং ‘বাড়াবাড়ি’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধান উপদেষ্টা, সাংবাদিক মেহেদি হাসান-এর মালিকানাধীন গণমাধ্যম ‘জেটিও’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। গণঅভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের স্থিতিশীলতা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন তিনি।
‘জমির বিরোধই মূল কারণ, ধর্মীয় আক্রমণ নয়’
হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনাগুলো হলো প্রতিবেশীদের মধ্যে সাধারণ বিরোধ। তিনি দাবি করেন, এর মূল কারণ ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং জমি বা পারিবারিক কলহ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটা খুবই সাধারণ। ধরুন আপনি আমার প্রতিবেশী, আপনি হিন্দু আর আমি মুসলিম। মাঝেমধ্যে জমির বিরোধ বা পারিবারিক সমস্যা হতেই পারে। এটুকুই।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সমালোচনার একটি বড় অংশ আসছে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে, যার উৎস মূলত ভারত।
নাগরিক হিসেবে নিজেদের দেখার আহ্বান
গণঅভ্যুত্থানের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা আরও বেড়েছে—এমন উদ্বেগের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, পরিস্থিতি খারাপ হয়নি এবং সরকার সজাগ রয়েছে।
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান যেন তারা নিজেদের প্রথমে একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে না দেখে, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেখেন—যাঁরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকারী।
‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে’
দেশের বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, অভ্যুত্থানের পরের দিনগুলোতে কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও সেই সময় এক ধরনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে হয়েছে, যখন সাবেক প্রতিপক্ষরা শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিচ্ছিলেন।
“ওই সময়টা সব কিছুই ছিল একরকম বিশৃঙ্খল অবস্থায়। কে কোন পক্ষে, তা বোঝা যাচ্ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে,” বলেন তিনি। তাঁর দৃঢ় ঘোষণা, বর্তমানে দেশে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর অভ্যন্তরীণ সংঘাতের হুমকির বিষয়ে সেনাপ্রধানের সতর্কতার সঙ্গে একমত পোষণ করে ইউনূস বলেন, ঐক্য অপরিহার্য, তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল। তিনি বলেন, “সকলেই একমত হবেন। যদি লড়াই চলে, তবে সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আমাদের সকলের সাধারণ লক্ষ্য হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা।”
প্রধান উপদেষ্টার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।















