ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা তার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেও রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
ইস্টারের দিনে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দেন। এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যরা ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একজন কংগ্রেস সদস্য তাকে পদ থেকে অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্ব নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
অন্য ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের মন্তব্যকে অস্থিতিশীল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করবে এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়বে।
ইতোমধ্যে ইরানে বিভিন্ন হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং চিকিৎসা কেন্দ্রেও হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতারা তার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে কঠোর বার্তা দেওয়া প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়াও যৌক্তিক।
তারা দাবি করেছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরোক্ষ হামলায় জড়িত এবং এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান ছাড়া বিকল্প নেই।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিভাজন তৈরি করেছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
















