দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যবস্থায় নারীদের চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান জন্ম দিতে দেখা গেলেও গবেষণা বলছে, এই পদ্ধতি প্রকৃতিগতভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক নয়। বরং ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, হাজার বছর ধরে নারীরা দাঁড়িয়ে, বসে বা ঝুঁকে সন্তান জন্ম দিতেন, যা শারীরিকভাবে বেশি সহায়ক।
প্রাচীন যুগে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীরা হাঁটু গেড়ে, বসে বা স্কোয়াট ভঙ্গিতে সন্তান জন্ম দিতেন। এই অবস্থানগুলোতে শরীরের স্বাভাবিক কাঠামো ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রসবকে সহজ করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বসা বা স্কোয়াট অবস্থায় পেলভিসের আকার বাড়ে, ফলে শিশুর জন্ম সহজ হয়।
তাহলে আধুনিক সময়ে কেন অধিকাংশ নারী চিৎ হয়ে সন্তান জন্ম দেন? এর পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দী পুরোনো একটি পরিবর্তন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭শ শতকে এক ফরাসি চিকিৎসক এই পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করেন। তিনি মনে করতেন, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান জন্ম দিলে চিকিৎসকের জন্য কাজ করা সহজ হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে এই পদ্ধতি চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
আরেকটি মত অনুযায়ী, একই সময়ের এক ফরাসি রাজাও এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন। বলা হয়, তিনি সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া দেখতে আগ্রহী ছিলেন এবং শোয়া অবস্থায় তা তার জন্য সুবিধাজনক ছিল। যদিও এর প্রমাণ নিশ্চিত নয়, তবে সেই সময় থেকেই এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিৎ হয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া একটি তুলনামূলক আধুনিক প্রথা, যা গত ৩০০ থেকে ৪০০ বছরে বেশি প্রচলিত হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে প্রসব প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়ে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সোজা বা সক্রিয় অবস্থানে সন্তান জন্ম দিলে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমে, ব্যথা কম লাগে এবং নবজাতকের সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া প্রসবের সময়ও কম লাগে।
এছাড়া চিকিৎসাবিদদের মতে, দাঁড়িয়ে বা বসে প্রসবের সময় জরায়ুর ওপর চাপ কম পড়ে এবং শিশুর জন্য অক্সিজেন সরবরাহও ভালো থাকে।
বর্তমানে কিছু দেশে ‘সক্রিয় প্রসব’ ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেখানে নারীদের প্রসবের সময় স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী চলাফেরা ও অবস্থান বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীদের প্রসব সংক্রান্ত বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি, যাতে তারা নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
















