চট্টগ্রামে ঘাটে আটকা শত শত ট্রলার ও লাইটার জাহাজ; সামনে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র ডিজেল সংকটে দেশের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এবং নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে শত শত ফিশিং ট্রলার ও লাইটার জাহাজ জ্বালানির অভাবে অলস বসে থাকায় একদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমও স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, লাইটার জাহাজ এবং ফিশিং ট্রলার—সবখানেই এখন হাহাকার। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য ডিজেল সরবরাহ করায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে গত ছয় দিন ধরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে।
সংকটের ভয়াবহ চিত্র:
- মৎস্য খাতে ধস: জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে মাছ ধরার কার্যক্রম প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। বড় ট্রলারগুলোতে যেখানে ৩-৪ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় জেলেরা ১৪ দিনের পরিবর্তে ৮-৯ দিনেই ফিরে আসছেন।
- লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত: বিডব্লিউটিসিসির তথ্যমতে, দৈনিক আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদার বিপরীতে ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০-৭০ হাজার লিটার। ফলে পণ্য নিয়ে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১ হাজার ৫০টি লাইটার জাহাজ ঘাটে আটকে আছে।
- কনটেইনার ডিপোতে প্রভাব: চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে রপ্তানি ও আমদানি পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দৈনিক ৬০-৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহকারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতে বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- অর্থনৈতিক সাশ্রয় বনাম সংকট: সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ প্রায় চার গুণ কম (টনে ৫০০-৬০০ টাকা)। কিন্তু জ্বালানি না পাওয়ায় এই সাশ্রয়ী মাধ্যমটি এখন বন্ধের পথে।
আসন্ন দ্বিমুখী বিপদ: এই সংকটের মধ্যেই আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ধরার টানা ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। জ্বালানি সংকটে এমনিতেই আয় বন্ধ, তার ওপর দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞার খবরে উপকূলীয় লাখো জেলের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে ট্রলারে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক সফিক আহমেদ ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।
















