জ্বালানি ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন নেপালের শীর্ষ ব্যবসায়ী
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের শীর্ষ ব্যবসায়ী বিনোদ কে চৌধুরী।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে এই সহযোগিতা অনেকটাই ভারতের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে এবং বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। এই বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের মাধ্যমে সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে।
ভূমিবেষ্টিত দেশ হওয়ায় নেপালের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ভারতের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভারতের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তন এই সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দূরবর্তী দেশের তুলনায় পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য অনেকটাই অভিন্ন, তাই পারস্পরিক সহযোগিতা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়।
তিনি জানান, হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত নদীগুলোর প্রবাহ দুই দেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সংযোগের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সংযোগ খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব।
তারা মনে করেন, রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করে বাস্তবভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুললে এই অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।














