ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশ গুরুতর জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে ইতোমধ্যে সংকটের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে জ্বালানি নেওয়ার জন্য। রাজধানী ঢাকায়ও যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে বলে দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। যানবাহনে জ্বালানি রেশনিং, ডিজেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা এবং চাপ কমাতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো আমদানিনির্ভরতা। দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় পরিশোধনাগারে থাকা অপরিশোধিত তেলের মজুদ মাত্র দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ডিজেলের মজুদও দ্রুত কমছে বলে জানা গেছে। কিছু সূত্র বলছে, মজুদ ১০ দিনের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে, যদিও এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য বিশেষ অনুমতির আশাও করছে সরকার।
গ্যাস খাতেও চাপ বাড়ছে। এলএনজি আমদানির খরচ দ্রুত বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সংকট শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবহন, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছে যেখানে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি দেশের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ হাজার মাইল দূরে হলেও তার অভিঘাত বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















