বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে তারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ঐকমত্যের দলিল নিয়ে প্রতারণা
ঐকমত্যের দলিলে স্বাক্ষর করার দিনের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মনে আছে—সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। তার আগে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার ঠিকঠাক করে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে স্বাক্ষর করলাম।”
তবে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে যখন ঐকমত্যের সেই নথি উপস্থাপন করা হয়, তখন তাতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।
‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে অভিযোগ
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কমিশন প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে ঐকমত্যের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয়ে তারা অনেক ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলেন। তবে কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ থাকায় তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) দিয়েছিলেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মূল বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পরও ভিন্নমত দেওয়াটি ছিল একটি স্বাভাবিক নিয়ম। এই ভিন্নমতের বিষয়গুলো নির্বাচনে তাদের ম্যানিফেস্টো বা ইশতেহারে থাকার কথা ছিল। জনগণ যদি তাদের ভোট দিত, তবে তারা পার্লামেন্টে তা পাস করে পরিবর্তন আনতেন, অন্যথায় তা বাদ পড়ত।
আস্থার সেতু ভেঙে দেওয়া
ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা যে বিশ্বাসযোগ্যতা আশা করেছিলাম, তারা তা রাখেনি। বিশেষ করে আমরা যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাই আমরা বলেছি, ‘ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট’ (আস্থা ভঙ্গ)। অথচ তারা সেই আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের।”
















