ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। রাজধানী তেহরান, ইসফাহানসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী তেহরানে মধ্যরাতের আগে ও পরে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি প্রধান বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত তা মেরামত করা হয়েছে।
তেহরানের আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দেশের ওষুধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসফাহানে পাহাড়ি এলাকায় শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা হামলার ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুরো শহরজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বহু আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আবারও হুমকি দিয়েছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের তেল-গ্যাস স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানিশোধন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হতে পারে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থান বজায় রেখে বলেছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা প্রতিরোধে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উন্নত ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অভ্যন্তরীণভাবে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, চলমান এই সংঘাতে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কঠোরতা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
















