যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো উপসাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে জড়িত কোম্পানিগুলোর জন্য বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিরল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীদের সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি একটি বিশেষ কমিটি বৈঠকে বসে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, তাই দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পরিবেশগত নিয়ম-কানুন কঠোর থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য সুবিধা তৈরি করবে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ আইনের মৌলিক উদ্দেশ্যের বিরোধী।
১৯৭৩ সালে প্রণীত এই আইনটি বিপন্ন প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মেক্সিকো উপসাগরে এই আইনের আওতায় কিছু বিরল প্রজাতি বিশেষ সুরক্ষা পেয়ে থাকে।
এর মধ্যে একটি বিরল তিমি প্রজাতি রয়েছে, যার সংখ্যা বর্তমানে মাত্র প্রায় ৫০টির মতো বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি ও মাছও এই আইনের আওতায় সুরক্ষিত।
সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব প্রাণীর অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রশাসনের সমালোচকরা আরও বলছেন, জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর যুক্তি দিয়ে পরিবেশ সুরক্ষাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















