৭ থেকে ১১ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে স্থবির আমদানি-রপ্তানি
পণ্যজট ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা; তবে পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক।
ঈদুল ফিতর, স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দেশের প্রধান স্থলবন্দরগুলোতে টানা ৭ থেকে ১১ দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়েছে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলসহ হিলি, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ কাস্টমসের নিয়মিত কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই দীর্ঘ ছুটির ফলে সীমান্তের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে তীব্র জটের সৃষ্টি হবে এবং কাঁচামাল সংকটে উৎপাদনমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও ফলের মতো পচনশীল পণ্যের সরবরাহ কমায় বাজারে দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বন্দরভিত্তিক ছুটির চিত্র ও বর্তমান অবস্থা:
| স্থলবন্দরের নাম | ছুটির মেয়াদ | পুনরায় চালু হবে | বর্তমান অবস্থা |
| বেনাপোল | ৭ দিন | ২৪ মার্চ | আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক। |
| হিলি | ১০ দিন | ২৮ মার্চ | বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ, ইমিগ্রেশন চালু। |
| ভোমরা | ১০ দিন | ২৮ মার্চ | আমদানি-রপ্তানি স্থবির, পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল করছে। |
| সোনামসজিদ | ১০ দিন | ২৮ মার্চ | লোড-আনলোড সীমিত, ইমিগ্রেশন স্বাভাবিক। |
| বাংলাবান্ধা | ১১ দিন | ২৮ মার্চ | দীর্ঘতম ছুটি, তবে যাত্রী পারাপার সচল। |
| বুড়িমারী | ১১ দিন | ২৮ মার্চ | বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ, কাস্টমস সীমিত পরিসরে খোলা। |
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়া অন্যান্য ছুটির দিনে কাস্টমস হাউসগুলো সীমিত আকারে খোলা রাখার কথা থাকলেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকদের অনুপস্থিতিতে কাজ এগোচ্ছে না। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি শেষে ২৪ মার্চ থেকে পুনরায় কর্মতৎপরতা শুরু হবে। অন্যদিকে, হিলি ও বুড়িমারী বন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ১১ দিনের দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, এই দীর্ঘ বিরতিকে ‘হলিডে ট্র্যাপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ব্যাংক বন্ধ থাকায় এলসি খোলা বা অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থলবন্দরগুলোর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর এলাকাগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
















