তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ প্রাণহানি: কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু
ফেনী ও হবিগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৭ জন নিহত; রেলওয়ের দুই গেটম্যান বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি পৃথক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টা থেকে আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের ধাক্কায় নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘাতক ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফেনীর রামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আজ ভোর ৪টার দিকে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের এক ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন। মহিপাল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের এক লেনে সেতুর সংস্কার কাজ চলায় যানবাহনের গতি ছিল ধীর। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয় এবং পেছনে যানবাহনের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা ‘দোয়েল পরিবহন’ নামক আরেকটি বাস সেই জটলার ওপর তুলে দিলে বাসের সুপারভাইজার ও দুই যাত্রী প্রাণ হারান। হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে আসবাববোঝাই পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশ পরিবর্তন করে খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মাধবপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন পুরুষ ও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। সড়ক ও রেলপথে একদিনে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদ পরবর্তী যাতায়াতে চালকদের অসতর্কতা এবং লেভেল ক্রসিংগুলোতে সংকেত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সড়ক ও রেলপথে শৃঙ্খলার অভাব আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
















