বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে হোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন; জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল পর্যটকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ঘন নীল পাহাড়ের গায়ে সাদা মেঘের আনাগোনা আর ঝিরি-ঝরনার কলতান উপভোগ করতে এবারের দীর্ঘ ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে পাহাড়ের তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্টগুলোর প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ এরই মধ্যে আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটির আমেজ চলবে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালি, বগালেক এবং কেওক্রাডংয়ের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বান্দরবান জেলা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এবার পর্যটকদের আগমন ঘটবে মূলত দুই দফায়। প্রথম দফায় ২০ থেকে ২৩ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে কেন্দ্র করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে। তবে তরুণ পর্যটকদের মধ্যে যারা মোটরসাইকেলে ভ্রমণে আগ্রহী, দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তাদের কেউ কেউ বুকিং বাতিল করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তেলের সংকটে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় পানি সরবরাহ ও যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রুমা, থানচি ও লামার রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের সমাগম আশাব্যঞ্জক। পর্যটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।
এদিকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতেও সাজেকগামী পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা এবং রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পর্যটক সমাগম অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পর্যটকবাহী বোটে লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। পাহাড়ের এই সমাহিত সৌন্দর্যের টানে আসা পর্যটকদের বরণ করে নিতে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। জ্বালানি সংকটের মতো কিছু প্রতিকূলতা থাকলেও পাহাড়ের টানে আসা পর্যটকদের এই জোয়ার পার্বত্য অর্থনীতির চাকা সচল করবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
















