১২ মার্চ পর্যন্ত এলএনজি ও ডিজেলে স্বস্তি; পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের বেতার বার্তা এবং ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় বিশ্ব বাণিজ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জলপথ বন্ধের ঘোষণা না দেওয়ায় এবং বাংলাদেশের কাছে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এখনই দেশে কোনো জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নেই।
সরকারের জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এলএনজি ও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ চেইন এবং আমদানিতে চাপের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
১. জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
- ডিজেল: ২ লাখ ১ হাজার টন মজুত আছে, যা দিয়ে আগামী ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। চলতি মাসে আরও ৩.৮০ লাখ টন আসার কথা।
- অন্যান্য: অকটেনের মজুত আছে ৩০ দিনের, পেট্রোলের ২০ দিনের এবং ফার্নেস অয়েলের ৯৩ দিনের।
- আমদানি: সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে তার যাত্রা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পরিশোধিত তেল সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসায় আপাতত ঝুঁকি কম।
২. এলএনজি আমদানিতে ২ সপ্তাহের স্বস্তি: বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির ৬৫ শতাংশই আসে কাতার থেকে, যা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে।
- পেট্রোবাংলার পর্যবেক্ষণ: সংঘাত শুরুর আগেই এলএনজিবাহী ৪টি জাহাজ প্রণালি পার হয়ে আসায় ১২ মার্চ পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই।
- ঝুঁকি: তবে ১৫ ও ১৮ মার্চ যে দুটি জাহাজ আসার কথা, সেগুলো আটকে গেলে সংকট তৈরি হতে পারে। বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
৩. এলপিজিতে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস: এলপিজি খাতে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই।
- উৎসের পরিবর্তন: গত বছর ৭৫ শতাংশ এলপিজি হরমুজ প্রণালি হয়ে আসলেও বর্তমানে তা কমে ২১ শতাংশে নেমেছে। এখন সিংহভাগ (৬৭%) এলপিজি আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
- বর্তমান জাহাজ: মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে আসার কথা থাকা এলপিজি জাহাজগুলো (যেমন এমজিআই-এর জাহাজ) ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় বা বন্দরে পৌঁছে গেছে।
৪. বিকল্প পরিকল্পনা ও সরকারের অবস্থান: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি অচল হলেও সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের হাতে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
















