দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এপেক সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগে একাধিক স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির এই পদক্ষেপকে আসন্ন সম্মেলন ঘিরে উসকানিমূলক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সকালে পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর নামেও পরিচিত) দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার (২১৭ মাইল) পথ অতিক্রম করে স্থলভাগে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “অতিরিক্ত উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে।”
এটি উত্তর কোরিয়ার নতুন দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে দেশটি মে মাসে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
বিশ্লেষকরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, উত্তর কোরিয়া এপেক সম্মেলনের আগে বা চলাকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে—নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে।
সিউলের ইহওয়া উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পার্ক উন-গন বলেন, “এপেক সম্মেলনের ঠিক আগে এই উৎক্ষেপণ কিম জং উনের জন্য একটি বার্তা—তিনি সিউলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় নিজের উপস্থিতি ও প্রভাব বোঝাতে চাচ্ছেন, আগেও তিনি এমন করেছেন।”
এ মাসের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং-২০’ প্রদর্শন করেন, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে চীন, রাশিয়া ও আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজটি উত্তর কোরিয়ার শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যা কিম জং উনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অবস্থান জোরদার করার ইঙ্গিত দেয়।
পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য এসব অস্ত্র উন্নয়ন জরুরি।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে পূর্বে বৈঠক হয়েছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আবারও কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী, তবে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগের কোনো প্রশ্নই নেই।
















