দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা কমেছে। মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নতুন করে অস্থিরতার কারণে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলন হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এই খাতে আমানত কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। গত মার্চে যা ছিল ৪ লাখ ৯ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত কমেছে ১৯ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা।
পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ১০টি ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর মধ্যে পাঁচটি একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, মূলত দুটি কারণে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত কমে গেছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন অনিয়ম সামনে আসে। এরপর গ্রাহকরা এসব ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন। এতে কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতেও হিমশিম খায়। এমন পরিস্থিতিতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলো থেকে টাকা উত্তোলন শুরু হলেও নতুন করে আমানত জমা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, জুন প্রান্তিকে সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন পর্ষদ গঠন নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। ফলে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেন। এর কারণে সামগ্রিক ইসলামি ব্যাংকের আমানত অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়।
চলতি বছরের জুন শেষে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে। ব্যাংকটির আমানত ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, যা ইসলামী ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৩৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, যার ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আমানত রয়েছে।


























