ঝঁকিপূর্ণ ৭ হাজার কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা, নির্বাচনে থাকছেন ১ লাখ সেনাসদস্য
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফ্যাসিস্ট রেজিমের হুমকি ও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পুলিশ প্রশাসন সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি ১ লাখ সেনাসদস্য, ৬ লাখ আনসার এবং র্যাব-বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
নিরাপত্তা নিয়ে আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
- অস্ত্র জমা: সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা পড়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর লুট হওয়া ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
- ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: সারাদেশে প্রায় ৭ হাজার কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সব বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
- বাহিনী মোতায়েন: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এতো বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে কেউ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।
- অপরাধীদের অবস্থান: জেল থেকে পালিয়ে যাওয়া অপরাধী বা উগ্রবাদীরা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। আইজিপির ভাষ্যমতে, “অপরাধীরা নিজেরাই এখন দৌড়ের ওপর আছে, তারা নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারবে না।”
পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, “জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি (অপেক্ষা করুন এবং দেখুন)।” তিনি স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরোনো অভ্যাস রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও পুলিশকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা চলছে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ বা ত্রুটি করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ কমিশনের সুপারিশগুলো যাতে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সমর্থনে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
















