রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষত নিয়ে যাত্রা শুরু করল নতুন বছর
২০২৫ সালে ১৩৩ জনের প্রাণহানি এবং মব জাস্টিসে ১৬৮ জনের মৃত্যু আইনের শাসনের সংকটকে প্রকট করেছে।
২০২৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (HRSS) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্যমতে, বছরজুড়ে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এই অস্থিরতার সমান্তরালে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ঘটনা ছিল শিউরে ওঠার মতো; ২৯২টি ঘটনায় ১৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ২০২৫ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২১.২% এ দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের ঘরে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নজিরবিহীন আঘাত দেখা গেছে বছরের শেষ দিকে; ডিসেম্বর মাসে ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ কার্যালয়ে হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে।
এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে ১২ই ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকা এবং ১৪ দলীয় জোটের বড় অংশের বর্জনের ঘোষণায় নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবুও নতুন বছরে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এবং ডিজিটাল সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাশায় বুক বাঁধছে দেশের মানুষ।
















